দেশের অন্যতম মাদক ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত রাজশাহীতে মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সীমান্তবর্তী উপজেলা গোদাগাড়ী, বাঘা ও চারঘাট ছাড়াও রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে, তবুও বড় ধরনের মাদকের চালান উদ্ধার কিংবা আলোচিত শীর্ষ মাদক কারবারিদের গ্রেফতারের ঘটনা খুব কমই দেখা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, একসময় ফেনসিডিলের আধিপত্য থাকলেও বর্তমানে ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, গাঁজা এবং ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কফ সিরাপ সবচেয়ে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। তুলনামূলক ব্যয়বহুল হলেও হেরোইনের চাহিদাও উল্লেখযোগ্য। অল্প সময়ে অধিক মুনাফার আশায় নতুন করে অনেকেই এই অবৈধ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজশাহী মহানগরের দামকুড়া থানার হরিপুর ও জাঙ্গালপাড়া এলাকায় কয়েকজন পলাতক ও একাধিক মামলার আসামির নেতৃত্বে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। কাশিয়াডাঙ্গা থানার গুড়িপাড়ায়ও প্রায় সব ধরনের মাদক সহজে পাওয়া যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বোয়ালিয়া থানার পাচানিমাঠ, পঞ্চবটি, খড়বোনা, কেদুরমোড়, হাদিরমোড়, শহীদ মিনার ও তালাইমারী এলাকায় খুচরা মাদক বিক্রি অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এসব এলাকায় সুদের ব্যবসার সঙ্গেও অনেক মাদক কারবারির সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনায় নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
মতিহার থানার জাহাজঘাট, সাতবাড়িয়া, ডাসমারী স্কুল মোড়, মালেকের মোড়, সুরাপাড়ার মোড়, চর-শ্যামপুর ও মিজানের মোড় এলাকাও দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার জন্য আলোচিত। স্থানীয়দের দাবি, একাধিক মামলার আসামিসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। ২০২২ সালে মতিহার থানার তালিকায় ২৭০ জন সন্দেহভাজন মাদক কারবারির নাম থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
কাটাখালী থানার পদ্মার চর, শ্যামপুর, বেলঘরিয়া, নওদাপাড়া, চৌমহনী ও টাঙ্গন এলাকাকেও মাদকের গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে উল্লেখ করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, সীমান্ত এলাকা থেকে ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে করে বড় চালান দেশের বিভিন্ন জেলায় পাচার করা হয়।
অন্যদিকে সীমান্তবর্তী গোদাগাড়ীকে স্থানীয়রা হেরোইনের করিডোর হিসেবে উল্লেখ যোগ্য। অভিযোগ রয়েছে, সেখান থেকে নিয়মিত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হেরোইনের চালান যাচ্ছে। চারঘাট এলাকাও মাদক পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে পরিচিত।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করা মাদকদ্রব্য বিভিন্ন কৌশলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে সেগুলো খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সহজলভ্য মাদকের কারণে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতাও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণ। অভিযোগ রয়েছে, কথিত বড় ভাইদের নির্দেশে তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বড় অংশই তরুণ ও যুবক। তাদের মধ্যে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়ছে।
সম্প্রতি রাজশাহী মহানগরীতে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। অভিযানে মাদকসেবী, খুচরা কারবারি, চোর, মাদকাসক্ত, ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এখনো আলোচিত শীর্ষ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না। তাদের মতে, মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা গেলে মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পরিবর্তন আসবে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ গাজিউর রহমান বলেন, আরএমপি পুলিশ কমিশনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। প্রতিদিন নিয়মিত জোরালো অভিযান পরিচালনা করছে আইশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের গ্রেফতারের পাশাপাশি মাদক উদ্ধারেও অভিযান চলছে। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পর্যায়ক্রমে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, একসময় ফেনসিডিলের আধিপত্য থাকলেও বর্তমানে ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, গাঁজা এবং ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কফ সিরাপ সবচেয়ে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। তুলনামূলক ব্যয়বহুল হলেও হেরোইনের চাহিদাও উল্লেখযোগ্য। অল্প সময়ে অধিক মুনাফার আশায় নতুন করে অনেকেই এই অবৈধ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজশাহী মহানগরের দামকুড়া থানার হরিপুর ও জাঙ্গালপাড়া এলাকায় কয়েকজন পলাতক ও একাধিক মামলার আসামির নেতৃত্বে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। কাশিয়াডাঙ্গা থানার গুড়িপাড়ায়ও প্রায় সব ধরনের মাদক সহজে পাওয়া যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বোয়ালিয়া থানার পাচানিমাঠ, পঞ্চবটি, খড়বোনা, কেদুরমোড়, হাদিরমোড়, শহীদ মিনার ও তালাইমারী এলাকায় খুচরা মাদক বিক্রি অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এসব এলাকায় সুদের ব্যবসার সঙ্গেও অনেক মাদক কারবারির সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনায় নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
মতিহার থানার জাহাজঘাট, সাতবাড়িয়া, ডাসমারী স্কুল মোড়, মালেকের মোড়, সুরাপাড়ার মোড়, চর-শ্যামপুর ও মিজানের মোড় এলাকাও দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার জন্য আলোচিত। স্থানীয়দের দাবি, একাধিক মামলার আসামিসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। ২০২২ সালে মতিহার থানার তালিকায় ২৭০ জন সন্দেহভাজন মাদক কারবারির নাম থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
কাটাখালী থানার পদ্মার চর, শ্যামপুর, বেলঘরিয়া, নওদাপাড়া, চৌমহনী ও টাঙ্গন এলাকাকেও মাদকের গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে উল্লেখ করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, সীমান্ত এলাকা থেকে ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে করে বড় চালান দেশের বিভিন্ন জেলায় পাচার করা হয়।
অন্যদিকে সীমান্তবর্তী গোদাগাড়ীকে স্থানীয়রা হেরোইনের করিডোর হিসেবে উল্লেখ যোগ্য। অভিযোগ রয়েছে, সেখান থেকে নিয়মিত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হেরোইনের চালান যাচ্ছে। চারঘাট এলাকাও মাদক পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে পরিচিত।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করা মাদকদ্রব্য বিভিন্ন কৌশলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে সেগুলো খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সহজলভ্য মাদকের কারণে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতাও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণ। অভিযোগ রয়েছে, কথিত বড় ভাইদের নির্দেশে তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বড় অংশই তরুণ ও যুবক। তাদের মধ্যে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়ছে।
সম্প্রতি রাজশাহী মহানগরীতে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। অভিযানে মাদকসেবী, খুচরা কারবারি, চোর, মাদকাসক্ত, ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এখনো আলোচিত শীর্ষ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না। তাদের মতে, মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা গেলে মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পরিবর্তন আসবে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ গাজিউর রহমান বলেন, আরএমপি পুলিশ কমিশনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। প্রতিদিন নিয়মিত জোরালো অভিযান পরিচালনা করছে আইশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের গ্রেফতারের পাশাপাশি মাদক উদ্ধারেও অভিযান চলছে। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পর্যায়ক্রমে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
মোঃ মাসুদ রানা রাব্বানী :